কারাগারের শিকলও থামাতে পারেনি ভোলার সাংবাদিক ফরিদুল ইসলামের কন্ঠ অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক।
“সত্য প্রকাশ করাই ছিল কি সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম এর অপরাধ? ২০২১ সালের ৫ আগস্টের একটি অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ভোলার সাংবাদিক ভুক্তভোগী মোঃ ফরিদুল ইসলাম।
ফরিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন এর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, চাকরির নামে প্রতারণা ও তেতুলিয়া নদীর জেগে ওঠা চর দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
মোঃ ফরিদুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তাকে ভোলা বাংলাবাজার সড়কের নতুন মসজিদ দক্ষিণ পাশে বড় মোল্লা বাড়ির সামনে থেকে জোর পূর্বক চোখ-মুখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। দিনভর নির্মম নির্যাতনের পর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদবাজি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। প্রায় দুই মাস কারাবন্দি থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন।
এ ঘটনায় ফরিদুল ইসলাম ভোলার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুম করে হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং - (-৪৩১/২০২১। ওই মামলায় আদালত পিবিআই বরিশালকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। :১৬ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে মামলায় পেনাল কোডের ১৪৯/৩০৭/৩২৫/৩৪১/৩৬৪/৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তবে মামলার বাদীর অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ রবিউল ইসলাম (বিপি-৯০১৯২২৩০০৭), পিবিআই বরিশাল, ৫ জুন ২০২৫ তারিখে আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, তাতে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং দুইজন আসামি মোঃ তামিম, মোঃ আজগরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দিয়ে দুর্বল ধারা দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে আদালতে।
বর্তমানে মামলাটি ভোলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীপক্ষ পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন এবং পূর্বের ধারা বহাল রেখে ৪ ও ৫ নম্বর আসামি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। নারাজি শুনানির তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
মোঃ ফরিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকার কারণে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোঃ ফরিদুল ইসলামের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়'বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভোলার সাংবাদিক সমাজ। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - মোঃ আওলাদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ মিনহাজ উদ্দিন (শাহরিয়ার)
_______________________
কার্যালয়ের ঠিকানা : টঙ্গী থানা সংলগ্ন তালতলা রোড,মাছিমপুর,টঙ্গী,গাজীপুর সিটি করর্পোরেশন।
মোবাইল নম্বর: +৮৮০১৮১৭-৫১৭২৮৯, +৮৮০১৭৮২-১৭০৭৪১
ই-মেইল- Thedailydhakarkagoj.com@gmail.com
All rights reserved (Itsahreiar) © 2025