গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে (জিসিসি) একটি আধুনিক, যানজটমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৮০ দিনের (৬ মাস) এক উচ্চাভিলাষী ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই তিনি এই রোডম্যাপ উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নগর ভবনের সামনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দিনটি শুরু করেন তিনি।
পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তার আগামীর কর্মপরিকল্পনা। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের বিষফোড়া জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের যানজট নিরসনে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক। এছাড়া ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সাথে যোগাযোগ সহজতর করতে কাশিমপুর এলাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শওকত হোসেন সরকার বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং মশার উপদ্রব কমাতে জরুরি ভিত্তিতে মহানগরের অভ্যন্তরে প্রবাহিত ১৯টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, গাজীপুরকে একটি গ্রিন ও ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, যত্রতত্র ঝুলে থাকা ডিশ লাইন অপসারণ এবং পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরোও বলেন, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ডেই একটি করে খেলার মাঠ এবং একটি করে শিশু পার্ক নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও বেগবান করা হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তাদের সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মতবিনিময় সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।