গোয়েন্দা নজরদারিতে মন্ত্রী-এমপিরা
দুই সপ্তাহ পরপর প্রতিবেদন, ইতোমধ্যে ২ মন্ত্রীসহ ২৮ জনপ্রতিনিধির তথ্য প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান-এর নির্দেশে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়মিতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এ সংস্থাকে হালনাগাদ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে দুইজন মন্ত্রী, তিনজন প্রতিমন্ত্রী এবং ২৩ জন সংসদ সদস্যের বিভিন্ন প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমের তথ্য সরকারপ্রধানের কাছে পৌঁছেছে।
এছাড়া সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক তদবিরবাজদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখার জন্য আরেকটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, সরকার অতীতের মতো দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ লক্ষ্যেই মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই নজরদারি জোরদার করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর দীর্ঘ শাসনামলের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও এমপিদের সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সচিবালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তরে আগত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করে তাদের অতীত কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে।
কোনো ব্যক্তি তদবির বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা এমপিকে তা জানানো হচ্ছে। এরপরও ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হচ্ছে।
একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে এ নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জনসেবামুখী শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।