মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আজ পবিত্র আরাফাতের দিন: “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা অবশেষে জনসাধারণের সুবিধার্থে খুলে দেওয়া হলো উত্তরা আব্দুল্লাহপুর সড়কের নির্মাণকাজের ৩০ শতাংশ অংশ। ছবি করেনি পাঁচটা, তারাও দেখি বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে: বাপ্পারাজ ঈদের আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই শোকে পরিণত টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৭, আহত অন্তত ৯ ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বইটি এসএম জিলানী, এমপি প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়, প্রয়োজন দ্রুত ও নিশ্চিত বিচার রামিসা হত্যাকাণ্ড ঘিরে জনমনে ক্ষোভ, উঠছে কঠোর শাস্তির দাবি পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূবাইল বাজার স্কুলের সামনে পশুর হাট বসানোর প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের মানববন্ধন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পূর্বের শত্রুতার জেরে বাড়িতে হামলার ঘটনায় আটক -১
Notice :
"Doinikprotidinertottho"  (দৈনিক প্রতিদিনের তথ্য) প্রতিদিন নতুন নতুন খবর বা তথ্য পরিবেশন করে থাকি আমরা। প্রতিদিনের তথ্য পাঠকদের কাছে পোঁছে দেয় ।

হারিয়ে যাওয়া চড়ুই তালগাছের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার প্রাণচঞ্চল সুর

প্রতিনিধির নাম: / ৪৩০ ভিউ:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

মোফাজ্জল হোসেন স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলার আকাশে একসময় সকালের সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শোনা যেত চড়ুই পাখির কিচিরমিচির ধ্বনি। উঠোনে ধান ছিটালে দলে দলে উড়ে আসত তারা, তালগাছের মাথায় দেখা যেত ছোট ছোট বাসা। সেই চেনা দৃশ্য এখন যেন অতীতের গল্প। আজ গ্রামেও চড়ুই পাখি দেখা যায় না বললেই চলে। প্রকৃতি নীরব হয়ে গেছে, নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার এই ছোট্ট প্রাণচঞ্চল পাখিটি।

একসময় গ্রামীণ জীবনের প্রতিটি কোণে ছিল চড়ুইয়ের উপস্থিতি। তালগাছ, খেজুরগাছ, কিংবা পুরোনো টিনের ছাদের নিচে তারা ছিল নিরাপদে। সকালে কিচিরমিচির করে সবাইকে জাগিয়ে তুলত, আবার সন্ধ্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যেত তাদের বাসায়। কিন্তু এখন গ্রামের তালগাছের সংখ্যা যেমন কমে গেছে, তেমনি চড়ুই পাখিও উধাও। প্রশ্ন জাগে, এ কি শুধু তালগাছের বিলুপ্তি, নাকি প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চেনা বন্ধু চড়ুই?

পরিবেশবিদদের মতে, চড়ুই পাখি বিলুপ্তির পেছনে মূল কারণ মানুষের অগ্রগতি আর প্রকৃতির প্রতি অবহেলা। একদিকে তাল ও খেজুরগাছ কেটে ফেলায় তাদের বাসা বানানোর জায়গা কমে গেছে, অন্যদিকে নগরায়ণের কারণে মাটির ঘর বা খড়ের চালও আর নেই। এখন চারপাশে শুধু ইট-কাঠের দেয়াল, যেখানে চড়ুইয়ের কোনো আশ্রয় মেলে না। তাছাড়া কৃষিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার তাদের খাদ্য,অর্থাৎ পোকামাকড়—ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে তারা না পায় খাবার, না পায় নিরাপদ বাসা।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির বিকিরণও তাদের জীবনে অদৃশ্য হুমকি হয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিও তরঙ্গ চড়ুইয়ের দিকনির্ণয়ের ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে, অনেকেই ফিরে যেতে পারে না নিজেদের বাসায়।

চড়ুই শুধু একটি পাখি নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। ফসলের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষি উৎপাদনে অবদান রাখে, ফুলের পরাগায়নে সহায়তা করে। চড়ুই হারিয়ে যাওয়া মানে প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সহচরকে হারানো, যা দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ সংকেত বয়ে আনবে।

তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। সচেতন উদ্যোগ নিলে এই পাখিকে ফেরানো সম্ভব। বাড়ির ছাদে বা স্কুলের বারান্দায় ছোট পাখির ঘর তৈরি করা, তাল ও খেজুরগাছ লাগানো, এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমানো,এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো চড়ুইয়ের বেঁচে থাকার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দেশের কিছু এলাকায় এমন উদ্যোগে ইতিমধ্যেই চড়ুইয়ের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

চড়ুই পাখি আমাদের শৈশবের সঙ্গী, আমাদের প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের কিচিরমিচির ছিল জীবনের সরল আনন্দের প্রতীক। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তবে হয়তো ভবিষ্যতের প্রজন্ম শুধুই বইয়ের পাতায় দেখতে পাবে এই পাখিটিকে।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানই হতে পারে চড়ুই বাঁচানোর একমাত্র উপায়। আমরা যদি আবার গাছ লাগাই, প্রকৃতিকে তার নিজস্ব ছন্দে ফিরে যেতে দিই, তাহলে হয়তো আবারও একদিন গ্রামের আকাশে ভেসে উঠবে একঝাঁক চড়ুইয়ের উড়াউড়ি, আর উঠোন ভরিয়ে তুলবে তাদের চিরচেনা কিচিরমিচির সুর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর