কালীগঞ্জে প্লট রেজিস্ট্রি ঘিরে প্রবাসীকে অপহরণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক//
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পূর্বাচলে বায়না সূত্রে ক্রয়কৃত প্লট রেজিস্ট্রি নিতে গিয়ে এক প্রবাসীকে মিথ্যা অপহরণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জুয়েল মিয়া।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে টঙ্গী স্টেশন রোডের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুয়েল মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে কর্মরত। প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি কালীগঞ্জের পারাবর্তা এলাকায় মিনারা বেগম ও তার স্বজনদের কাছ থেকে পূর্বাচল ১৫ ও ২৮ নম্বর সেক্টরে দুটি প্লট প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকায় বায়না দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে প্লট দুটি রেজিস্ট্রি নিতে গেলে বিক্রেতা মিনারা বেগমের ছেলে শরীফ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে প্লট দুটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা চালানো হয়।
জুয়েল মিয়ার দাবি, তার বিনিয়োগকৃত অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালীগঞ্জ থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট এক উপ-পরিদর্শক যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি একজন প্রবাসী। আমার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনেছি। এখন আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সবকিছু হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই এবং এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
তিনি ইতোমধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন, মাহবুব, মীম আক্তার, আসকর আলী, রাবেয়া খাতুন, মারুফ, জাহিদুল, মকবুল, তমি মিয়া, এরশাদ মিয়া, মহসিন ভূইয়া, আরিফসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মতামত পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।