দীর্ঘদিনের বৈধ রেজিস্টার লিজ।মেসার্স লাকী ডোর সেন্টার,জোরপূর্বক দোকানে প্রবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (পিতা: কাপ্তান মিয়া চৌধুরী), মেসার্স লাকী ডোর সেন্টার, রহমান ম্যানশন, জল্লার পার রোডে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক দোকানের আইনগত পজিশন হোল্ডার ও দীর্ঘদিনের বৈধ রেজিস্টার লিজ। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং দোকানটির উপর তার বৈধ দখল ও স্বত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত।
বর্তমানে তিনি পরিবার সহ প্রবাসে অবস্থান করায়, দেশে তার ব্যবসা ও সম্পদের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তার নিকট আত্মীয় মিজানের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল গফফার ফাহিম (পিতা: মৃত আব্দুল ওয়াব ওরফে মেরাই মিয়া, ঠিকানা: উত্তরণ বারুতখানা, বাসা নং: ৫৮) অজ্ঞাত কয়েকজন সশস্ত্র সহযোগী সহ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত দোকানে এসে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। তারা একাধিকবার হুমকি দেয় যে মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
পরবর্তীতে, এক পর্যায়ে ফাহিম ও তার সহযোগীরা কোনো প্রকার আদালতের আদেশ, উচ্ছেদ নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্র—চাপাটি, রামদা ইত্যাদি নিয়ে জোরপূর্বক দোকানে প্রবেশ করে। তারা দোকানের তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখল নেয়, দোকানের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে এবং দোকানের ভেতরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র—চেয়ার, টেবিল, ক্যাশ বক্সসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
এসময় তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে। ঘটনার সময় দোকানে অবস্থানরত কেয়ারটেকারসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা চরম আতঙ্কে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে, উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে মাননীয় হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে (সিভিল রিভিশন নং ৩২৬৩/২০২২) এবং আদালত এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষকে উচ্ছেদের কোনো আদেশ প্রদান করেনি। ফলে, এই জোরপূর্বক দখল সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিচারাধীন বিষয়ের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
এছাড়াও স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য যে, উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো মামলা, দলিল বা আইনগত কাগজপত্রে আব্দুল গফফার ফাহিমের কোনো নাম, মালিকানা বা স্বার্থের কোনো প্রমাণ নেই। তা সত্ত্বেও তিনি ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে দখল গ্রহণের চেষ্টা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উপরোক্ত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ—যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চাঁদাবাজি, চুরি, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক দখল।
মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর পরিবার, যারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে—
* অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ
* দোকানের বৈধ দখল পুনরুদ্ধার
* লুট হওয়া আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক মালামাল উদ্ধার
* এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
—এই সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
পরিশেষে, তারা প্রশাসনের সুনজর, দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন।