রাষ্ট্রনীতি, দুর্নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে করণীয় নিয়ে মতামত
ঢাকা প্রতিনিধি ॥ মিনহাজ কবীর (আবির)
বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার পক্ষ থেকে মিনহাজ কবীর (আবির)। তিনি বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বিনিয়োগ কমে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিনহাজ কবীর (আবির) বলেন, দুর্নীতি রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান বাধা। এটি রোধে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বাধ্যতামূলক প্রকাশ, বড় প্রকল্পে স্বচ্ছ ই-টেন্ডার ব্যবস্থা চালু, স্বাধীন দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা এবং ঘুষ ও কর ফাঁকির মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম। এ অবস্থায় কর নেট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ডিজিটাল আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালু, ব্যাংক, জমি, গাড়ি ও ব্যবসা লাইসেন্সের তথ্য সমন্বয় এবং অঘোষিত আয় শনাক্তে ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এছাড়া ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনলাইন ভ্যাট চালান, স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস ব্যবস্থা এবং নগদ লেনদেন কমিয়ে ট্রেসযোগ্য পেমেন্ট চালু করা গেলে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, কালো টাকা ও অর্থপাচার রোধে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং তথ্য বিনিময়, সন্দেহজনক বড় লেনদেন মনিটরিং এবং বেনামি সম্পদের তদন্ত জোরদার করা জরুরি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে মিনহাজ কবীর (আবির) বলেন, সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে না নিয়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আর্থিক জবাবদিহিতা ও স্থানীয় কর ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপও কমবে।
তিনি মনে করেন, “দুর্নীতি কমানো, ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চালু এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন হবে আরও টেকসই।”