বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দেশের ৮ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করলো ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)’
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষার্থীদের একই সাথে ইসলামিক মূল্যবোধ ও বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চালু করেছে ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)’।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঢাকার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক মানের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন। ঢাকার মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে এই আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সেনাপ্রধান ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে দেশের আরও ৭টি অঞ্চলে এ প্রতিষ্ঠানের নতুন শাখার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শাখাগুলো হলো— বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান সমাজে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নামে অপ্রয়োজনীয় প্রথা বা বেদআত বর্জন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কুসংস্কারমুক্ত একটি সঠিক ও সুস্থ ইসলামিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন।
সেনাবাহিনীর এই মহতী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান যুগের পরিবর্তিত ও আধুনিক চাহিদার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু মেধাবী করে তোলা নয়, বরং তাদের নৈতিকতা ও খাঁটি ইসলামিক চরিত্রে বলীয়ান করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কোমল হৃদয়ে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং শক্তিশালী ইসলামিক সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতেই এই ইনস্টিটিউট কাজ করবে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়: এখানে শিক্ষার্থীরা কেমব্রিজ কারিকুলাম অনুযায়ী ইংরেজি মাধ্যমে বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং সুন্নাহর আলোকে গভীর দ্বীনি শিক্ষা লাভ করবে।
সুশৃঙ্খল পরিবেশ: সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত, সুরক্ষিত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর ও সুশৃঙ্খল তত্ত্বাবধানে প্রতিটি শাখা পরিচালিত হবে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা: আধুনিক বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষার সাথে নৈতিকতার সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সফলভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হবে।
শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সর্বমহলে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে।